প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬, ১:০৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৮, ২০২৬, ৮:২২ এ.এম
বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় লাফ
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলা এবং ইরানের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের খবরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা এবং তেল সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্নের শঙ্কাই বাজারে দাম বৃদ্ধির মূল কারণ।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় গত শুক্রবার তেলের দাম কিছুটা কমেছিল। তবে চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সোমবার ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ তাবরিজ ও ইসফাহান শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর ফলে চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এ অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রোববার ইরান ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা দেখছেন। তিনি বলেছেন, বৃহত্তর সংঘাত এড়াতে একটি সমঝোতা এখনও সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নতুন হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার অন্যতম শর্ত হিসেবে দেখছে ইরান। মার্চে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর হামলার পর ইসরাইল লেবাননে সামরিক অভিযান শুরু করে। পরে ওয়াশিংটনে আলোচনার মাধ্যমে গত ৩ জুন উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
এদিকে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় ওপেক প্লাস রোববার টানা চতুর্থবারের মতো তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং উৎপাদনকারী কয়েকটি দেশের সীমিত সক্ষমতার কারণে এই সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রভাব খুব বেশি হবে না।
জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জির ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান জর্জ লিওন বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। তার মতে, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিই এখন বৈশ্বিক তেলের বাজারের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (৮ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩.২০ ডলার বা ৩.৩৯ শতাংশ বেড়ে ৯৬.২৪ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ২.৮৭ ডলার বা ৩.১৭ শতাংশ বেড়ে ৯৩.৪১ ডলারে উঠেছে।
Contact Information Office Address: Sonargaon Janapad Road, Sector #15, Turag, Dhaka-1230, Bangladesh. Phone: +8801400619777 Email: info@shobkhobor.com