তুরাগ নদীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাত নেতাকর্মী গ্রেপ্তারের সময় ধাওয়া খেয়ে নদীতে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ এবং পরে নদী থেকে একাধিক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় দেশীয় ও বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পালানোর সময় এ ঘটনা ঘটেছে। তবে সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে বিষয়টি তদন্ত করা এবং কারও সংশ্লিষ্টতা থাকলে তা খতিয়ে দেখা। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান কথা বলেন তিনি।সামাজিক মাধ্যমে তুরাগের ঘটনাকে ঘিরে পরস্পরবিরোধী প্রচারণার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জাহেদ উর রহমান বলেন, সেখানে কিছু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত। এটা হওয়া উচিত ছিল না।
তিনি আরও বলেন, সরকার স্বাভাবিক নিয়মেই ঘটনার তদন্ত করবে এবং এর সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তা খুঁজে বের করবে। জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশীয় ও দেশের বাইরের বিভিন্ন সংস্থার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পালানোর সময় ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তবুও ঘটনাটি সরকার অত্যন্ত দুঃখজনক হিসেবে দেখছে।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের জীবনও মূল্যবান। তারা এই রাষ্ট্রের নাগরিক। প্রত্যেকের প্রতি আমাদের আহ্বান, তারা যেন রাষ্ট্রের আইন মেনে চলেন।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়নি, তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার। আদালত সব পক্ষের বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত নেবেন। বিচারে যদি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করার সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে তারা আবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবে।