সব খবর
১৭ জানুয়ারী ২০২৫, ৩:৪৪ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার জন্য জর্ডানের বিশাল সহায়তা মিশন,আশার নতুন আলো

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার মানুষের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে একটি বিশাল সহায়তা কাফেলা যাত্রা শুরু করেছে। খাদ্য ও ওষুধের মতো জরুরি সামগ্রী নিয়ে এই কাফেলা জর্ডান থেকে গাজার পথে রওনা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত ও মানবিক সংকটের মধ্যে এই উদ্যোগ সেখানে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।

এই কাফেলা অক্টোবর ২০২৩ সালে শুরু হওয়া যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা যুদ্ধের পর থেকে সবচেয়ে বড় সহায়তা মিশন। ১২০টি ট্রাকের এই কাফেলা জর্ডান থেকে যাত্রা শুরু করে। এটি প্রথমে ইসরায়েলের কিং হুসেইন(অ্যালেনবি ব্রিজ) সীমান্ত পার করবে এবং তারপর ইরেজ সীমান্ত দিয়ে গাজায় প্রবেশ করবে।সহায়তা মিশনের মূল উদ্দেশ্য হলো গাজায় খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়া, যা দুই মিলিয়ন মানুষের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য।

এই বিশাল কাফেলার চালকদের একজন মুস্তাফা আল কাদরি বলেন, “আমরা আমাদের গাজার ভাইদের জন্য খাদ্য ও ওষুধ নিয়ে যাচ্ছি। এটি আমাদের কাছে এক মহৎ কাজ।” গাজায় মানবিক সাহায্য পাঠানোর জন্য জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ দ্বিতীয় এবং জর্ডানের জনগণ বিশেষ ভূমিকা রাখছেন।

এই সহায়তা অভিযানের মাধ্যমে ১২০টি ট্রাকের সাহায্য পাঠানো হচ্ছে, যা গাজার জনগণের প্রতি প্রতিবেশীদের ভালোবাসা ও সহমর্মিতার প্রকাশ। এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, “যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে সাহায্য কার্যক্রম বাধাহীনভাবে পরিচালিত হতে পারে।”

গাজার দেইর আল বালাহ এলাকায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের জন্য খাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে। শিশুরা ক্লান্ত হয়ে খাবারের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। ১০ বছর বয়সী ফারাহ খালেদ বাসাল জানায়, সে তার নয় ভাইবোনের খাবারের জন্য প্রতিদিন লাইনে দাঁড়ায়। তার বাবা গাজার উত্তরে আটকে আছেন। ফারাহ বলে, “আমি আমাদের বাড়িতে ফিরে যেতে চাই এবং বাবাকে ফিরে পেতে চাই।”

১৬ বছর বয়সী লামিস মোহাম্মদ আল মিজারি জানায়, তার পরিবার বর্তমানে একটি তাঁবুতে বসবাস করছে। “আগে আমি খাবার নিয়ে অনেক বাছ-বিচার করতাম। কিন্তু এখন সবকিছু খাই, এমনকি পশুরাও যা খায় না।” এই পরিস্থিতি তাদের পরিবারে খাদ্যের জন্য লড়াই সৃষ্টি করেছে।

জর্ডানের মানবিক সংস্থা দিনে ১৫০টি ট্রাক সহায়তা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন সঠিক অনুমোদন এবং যুদ্ধবিরতি। গাজার মানুষ এবং শিশুদের জন্য এই সহায়তা তাদের জীবনে বেঁচে থাকার নতুন আশার আলো জ্বালাবে। গাজার স্থায়ী শান্তি এবং মানবিক সহায়তার প্রবাহ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তথ্যসূত্র : বিবিসি

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মোবাইল ইন্টারনেটের সর্বনিম্ন গতি হবে ১০ এমবিপিএস, সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর

বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস প্রথম টি-টোয়েন্টি আজ সিলেটে

বিশ্বজুড়ে ট্রাম্পের জারি করা বেশিরভাগ শুল্ক অবৈধ

আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারের পদত্যাগের দাবি রাশেদ খাঁনের

নুরকে দেখতে এসে হাসপাতালে অবরুদ্ধ আসিফ নজরুল

কাকরাইলে দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইএসপিআরের বক্তব্য

জর্জিনাকে দেওয়া ৬১ কোটি টাকার আংটিতে রোনালদোর ‘গোপন বার্তা’

রিজার্ভ ফের ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

সিইসির সঙ্গে মার্কিন দূতাবাস প্রতিনিধির বৈঠক দুপুরে

মুনিয়া হত্যারহস্য ফাঁস

১০

উপরে ‘সিঙ্গাপুর’ নিচে আবদুল্লাহপুর

১১

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে স্থায়ী সমাধান চান প্রধান বিচারপতি

১২

‘বাহুবলী- দ্য এপিক’ আসছে অবিশ্বাস্য দৈর্ঘ্য নিয়ে

১৩

শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিচার শুরু আজ

১৪

রুমমেটকে টিউবলাইট দিয়ে আঘাত, ডাকসুর ভিপিপ্রার্থী জালাল হল থেকে বহিষ্কৃত

১৫

হঠাৎ জ্বরে পড়লে কী করবেন

১৬

মিথিলার নামের আগে থাকবে ‘ডক্টর’

১৭

১৬ বছরের ‘নোমোহার’ গোলে নাটকীয় জয় লিভারপুলের

১৮

খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা: বুলু

১৯

নামাজ শেষে বেরিয়ে জামায়াত নেতার প্রাণ গেল সড়ক দুর্ঘটনায়

২০