যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার মানুষের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে একটি বিশাল সহায়তা কাফেলা যাত্রা শুরু করেছে। খাদ্য ও ওষুধের মতো জরুরি সামগ্রী নিয়ে এই কাফেলা জর্ডান থেকে গাজার পথে রওনা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত ও মানবিক সংকটের মধ্যে এই উদ্যোগ সেখানে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।
এই কাফেলা অক্টোবর ২০২৩ সালে শুরু হওয়া যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা যুদ্ধের পর থেকে সবচেয়ে বড় সহায়তা মিশন। ১২০টি ট্রাকের এই কাফেলা জর্ডান থেকে যাত্রা শুরু করে। এটি প্রথমে ইসরায়েলের কিং হুসেইন(অ্যালেনবি ব্রিজ) সীমান্ত পার করবে এবং তারপর ইরেজ সীমান্ত দিয়ে গাজায় প্রবেশ করবে।সহায়তা মিশনের মূল উদ্দেশ্য হলো গাজায় খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়া, যা দুই মিলিয়ন মানুষের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য।
এই বিশাল কাফেলার চালকদের একজন মুস্তাফা আল কাদরি বলেন, “আমরা আমাদের গাজার ভাইদের জন্য খাদ্য ও ওষুধ নিয়ে যাচ্ছি। এটি আমাদের কাছে এক মহৎ কাজ।” গাজায় মানবিক সাহায্য পাঠানোর জন্য জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্লাহ দ্বিতীয় এবং জর্ডানের জনগণ বিশেষ ভূমিকা রাখছেন।
এই সহায়তা অভিযানের মাধ্যমে ১২০টি ট্রাকের সাহায্য পাঠানো হচ্ছে, যা গাজার জনগণের প্রতি প্রতিবেশীদের ভালোবাসা ও সহমর্মিতার প্রকাশ। এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, “যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে সাহায্য কার্যক্রম বাধাহীনভাবে পরিচালিত হতে পারে।”
গাজার দেইর আল বালাহ এলাকায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের জন্য খাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে। শিশুরা ক্লান্ত হয়ে খাবারের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। ১০ বছর বয়সী ফারাহ খালেদ বাসাল জানায়, সে তার নয় ভাইবোনের খাবারের জন্য প্রতিদিন লাইনে দাঁড়ায়। তার বাবা গাজার উত্তরে আটকে আছেন। ফারাহ বলে, “আমি আমাদের বাড়িতে ফিরে যেতে চাই এবং বাবাকে ফিরে পেতে চাই।”
১৬ বছর বয়সী লামিস মোহাম্মদ আল মিজারি জানায়, তার পরিবার বর্তমানে একটি তাঁবুতে বসবাস করছে। “আগে আমি খাবার নিয়ে অনেক বাছ-বিচার করতাম। কিন্তু এখন সবকিছু খাই, এমনকি পশুরাও যা খায় না।” এই পরিস্থিতি তাদের পরিবারে খাদ্যের জন্য লড়াই সৃষ্টি করেছে।
জর্ডানের মানবিক সংস্থা দিনে ১৫০টি ট্রাক সহায়তা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন সঠিক অনুমোদন এবং যুদ্ধবিরতি। গাজার মানুষ এবং শিশুদের জন্য এই সহায়তা তাদের জীবনে বেঁচে থাকার নতুন আশার আলো জ্বালাবে। গাজার স্থায়ী শান্তি এবং মানবিক সহায়তার প্রবাহ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তথ্যসূত্র : বিবিসি
মন্তব্য করুন