পিরোজপুর: পিরোজপুরের কাউখালীতে খেয়াঘাটের ইজারা নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যবসায়ীর দোকানে তালা দিয়ে চাবি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম আহসান কবির ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।
এ অভিযোগ করেছেন উপজেলার আমড়াঝুড়ি এলাকার নাম লিমন তালুকদার নামে এক ব্যবসায়ী।
ওই ব্যবসায়ী বলেন, গত ২৪ মার্চ পিরোজপুর জেলা পরিষদ থেকে আমড়াঝুড়ি খেয়াঘাটের ইজারার দপপত্র চাওয়া হয়। স্থানীয় সুলতান মাঝি বৈধভাবে দরপত্র কেনেন। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিয়াকত তালুকদার তা জমা দিতে বাধা দেন এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের কথা বলেন। তারপরও জমা দিলে আহসান কবির ক্ষিপ্ত হন। পরে ওইদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে আহসান, লিয়াকত তালুকদার, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জাহিদুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আল মাহমুদ সুমনসহ ২০-২৫ জনের একটি দল ব্যবসায়ী লিমন তালুকদার ও সুলতান মাঝিকে খুঁজতে যান। পরে তাদের না পেয়ে লিমন তালুকদারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মদিনা ডেইরি অ্যান্ড সুইটস হামলা চালান তারা। এসময় ওই দোকানের ক্যাশ বাক্সে থাকা নগদ দেড় লাখ টাকা লুট করে নেওয়া হয় এবং দোকনের কর্মচারীদের মারধর করে সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ডিভিডি নেওয়া হয়। পরে হামালাকারীরা দোকানে তালা মেরে চাবি নিয়ে যান।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে তখন কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানালে তিনি সমঝোতা করতে বলেন।
তিনি জানান, তার প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন ১৫ জন কর্মচারী কাজ করেন। হামলা ও লুটপাটের পর দোকান বন্ধ থাকায় তার ব্যবসার বেশ ক্ষতি হয়েছে। তিনি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
নাম ও পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বিএনপির অনেকে জানান, গত ৫ আগস্টের পর চাঁদাবাজি ও দখল বাণিজ্যে বেপারোয়া হয়ে উঠেছেন এসএম আহসান কবির। তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের বিভিন্নভাবে নিরাপত্তা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আহসান কবিরের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে জানান।
এ বিষয়ে কাউখালী থানার ওসি মো. সোলায়মান বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন