সব খবর ডেস্ক
২১ জানুয়ারী ২০২৫, ১২:১১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্পের জন্য জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তন কঠিন হতে পারে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ঘোষণা করেছেন যে তার সরকার আর যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী অনথিভুক্ত  শিশুদের নাগরিক হিসাবে বিবেচনা করবে না। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের  অধিকারের  সাংবিধানিক নিশ্চয়তাকে  চ্যালেঞ্জ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দেড়শো বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠিত সংবিধানে অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে একজন আমেরিকান নাগরিক। কিন্তু, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আদেশটি শিশুদের নাগরিকত্বের নথি প্রদান না করার জন্য ফেডারেল সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে।

 

ট্রাম্পের এই আদেশের অর্থ হল, সেইসব শিশু নাগরিকত্ব লাভ করবে না, যাদের মা এবং শিশুর জন্মের সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকার জন্য অনুমতি প্রাপ্ত নয়। এরফলে, তারা সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড এবং পাসপোর্টের মতো নথিভুক্ত অভিবাসীদের নাগরিকত্ব-নিশ্চিতকরণ নথিগুলি উপলব্দ করবে না।  ট্রাম্প প্রশাসন কার্যকরভাবে তাদের সরকারি স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি এবং আবাসন সুবিধার মতো সরকারি পরিষেবাগুলি থেকে বাদ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

 

কিন্তু, এটি করতে যেয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও বাধার মুখে পড়ছেন ট্রাম্প। কারণ, মার্কিন সংবিধানের যেকোন পরিবর্তনের জন্য কংগ্রেসে সর্বোচ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের প্রয়োজন, এবং তারপর, দেশটির তিন-চতুর্থাংশ রাজ্যের অনুমোদন প্রয়োজন। নিশ্চিতভাবেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন তিনি।

 

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এককভাবে সংবিধান সংশোধন করার এখতিয়ার রাখেন না, এবং জন্মগত অধিকার সূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত বা বাতিল করার কোনো নির্বাহী আদেশ মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর লঙ্ঘন।

 

যদিও ট্রাম্পের আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে, তা বাতিল বলে গণ্য হতে পারে। তবে, ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক এবং অভিবাসন ও নাগরিকত্ব আইন বিশেষজ্ঞ ড. আমান্ডা ফ্রস্ট বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট কোনো এক সময়ে জন্মগত নাগরিকত্বের প্ররোচনাকে সীমিত করার যুক্তি খুঁজে পেতে পারে, এই ধারণাটি আর হাস্যকর নয়।’

 

এরআগে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের মধ্যে জন্মগত সূত্রের নাগরিকত্বের সুবিধা সীমিত করার জন্য সর্বসম্মত অবস্থান ছিল, এবং অন্তত একজন বিচারক এটি বিবেচনা করতে ইচ্ছুক বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রফেসর ফ্রস্ট বলেন, ‘আমি মনে করি না এটা অকল্পনীয়, যা আমি ২০১৯ সালে বলতাম। অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে।’ সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মোবাইল ইন্টারনেটের সর্বনিম্ন গতি হবে ১০ এমবিপিএস, সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর

বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস প্রথম টি-টোয়েন্টি আজ সিলেটে

বিশ্বজুড়ে ট্রাম্পের জারি করা বেশিরভাগ শুল্ক অবৈধ

আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারের পদত্যাগের দাবি রাশেদ খাঁনের

নুরকে দেখতে এসে হাসপাতালে অবরুদ্ধ আসিফ নজরুল

কাকরাইলে দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইএসপিআরের বক্তব্য

জর্জিনাকে দেওয়া ৬১ কোটি টাকার আংটিতে রোনালদোর ‘গোপন বার্তা’

রিজার্ভ ফের ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

সিইসির সঙ্গে মার্কিন দূতাবাস প্রতিনিধির বৈঠক দুপুরে

মুনিয়া হত্যারহস্য ফাঁস

১০

উপরে ‘সিঙ্গাপুর’ নিচে আবদুল্লাহপুর

১১

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে স্থায়ী সমাধান চান প্রধান বিচারপতি

১২

‘বাহুবলী- দ্য এপিক’ আসছে অবিশ্বাস্য দৈর্ঘ্য নিয়ে

১৩

শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিচার শুরু আজ

১৪

রুমমেটকে টিউবলাইট দিয়ে আঘাত, ডাকসুর ভিপিপ্রার্থী জালাল হল থেকে বহিষ্কৃত

১৫

হঠাৎ জ্বরে পড়লে কী করবেন

১৬

মিথিলার নামের আগে থাকবে ‘ডক্টর’

১৭

১৬ বছরের ‘নোমোহার’ গোলে নাটকীয় জয় লিভারপুলের

১৮

খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা: বুলু

১৯

নামাজ শেষে বেরিয়ে জামায়াত নেতার প্রাণ গেল সড়ক দুর্ঘটনায়

২০