বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, জিয়াউর রহমান দেশ সংস্কার করেছেন, তিনি বাড়ি বাড়ি গেছেন। খালেদা জিয়া মাইলের পর মাইল কাজ করেছেন। তাই দেশ সংস্কার বেশি করেছে বিএনপি। দেশে প্রথম সংস্কারের জন্য ঘোষণা দেন খালেদা জিয়া। আর তারেক রহমানের ৩১ দফার মধ্যে সব সংস্কার রয়েছে।
রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইলের পৌর উদ্যানে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টুর গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি বলেন, ১৭ বছর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করেছে, অসংখ্য খুন, গুম করেছে। জুলাই আন্দোলনে আমাদের চার শতাধিক কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। বিএনপি এক দফা আন্দোলন শুরু করে স্বৈরাচার পতন ঘটিয়েছে।
এসময় বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, শেখ হাসিনা সরকার আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলো। আমার ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, টাঙ্গাইলে যতো হিন্দুদের বাড়ি ছিলো সব আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দখল করেছে। ইদানিং ভারতের মিডিয়া আমাকে নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাই বলতে চাই আমি কখনও হিন্দুদের ক্ষতি করিনাই। তাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে লাভ নাই।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান বলেন, পাঁচ আগস্টের পর বলেছিলাম, বাংলাদেশে এই গণঅভ্যুত্থানের পর মুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছিলাম। কিন্তু ভেবেছিলাম আর রাজপথে নামতে হবে না। কিন্তু বড় দুঃখের বিষয়, এই সরকারও সেই পথেই হাঁটছে। খুনি হাসিনা যেমন বলতেন, আগে উন্নয়ন পরে নির্বাচন। ঠিক তেমনি এই সরকার বলে বেড়ায়, আগে সংস্কার পরে নির্বাচন। দেশের শৃঙ্খলা ফেরাতে অবশ্যই আগে নির্বাচন দরকার।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনাকে ফখরুদ্দিন, ময়নুলের মতো করে বিদায় দিতে চাইনা। মানুষ ১৭ বছর ভোটের অধিকারের জন্য লড়েছে, সেই জাতীয় নির্বাচন জন্য আগামী পাঁচ ডিসেম্বর দিন ঘোষণা করুন।
সভায় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ১৯৯৬ সালে তিন সিট পেয়েছিলেন। এবার আসেন নির্বাচনে একটিও পাবেন না। আপনারা গায়ে ইসলামি লেবাস লাগিয়ে সন্ত্রাসী করবেন, তা জনগণ মানবে না।
জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহিনের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) বেনজির আহমেদ টিটো, সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব, নির্বাহী সদস্য এসএম ওবায়দুল হক নাসির, অ্যাড। মোহাম্মদ আলী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড। ফরহাদ ইকবাল।
২০০৪ সালে ২১ গ্রেনেড হামলা মামলায় আব্দুস সালাম পিন্টুকে ফাঁসির আদেশ দেয় আদালত। এরপর গত পাঁচ আগস্ট সরকার পতন হলে ওই মামলায় খালাস পান তিনি।
মন্তব্য করুন