আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দীর্ঘ ১৬ বছর পর মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। এ টুর্নামেন্টে দু’দল সবশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ২০০৯ সালে। দক্ষিণ আফ্রিকার সেঞ্চুরিয়ানে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ষষ্ঠ আসরে গ্রুপ পর্বের ওই ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছিল। যদি তা না হতো তবে ম্যাচটিতে জয় পেতে পারতো অজিরাই। এরপরের দু’টি আসরে দেখা হয়নি ভারত-অস্ট্রেলিয়ার। তবে নবম আসরে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ পরস্পরকে মোকাবেলা করবে তারা। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় শুরু হবে ভারত-অস্ট্রেলিয়া প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচটি। এটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য হিসাব চুকানোর ম্যাচ। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ফাইনালে খেলার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে অজিরা। অন্যদিকে টানা তৃতীয়বারের মতো টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে টিম ইন্ডিয়া।
‘এ’ গ্রুপ সেরা হয়েই এবারের এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শেষ চারে নাম লিখিয়েছে ভারত। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের সবগুলোতেই জয় পেয়েছে তারা। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে ও দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানকে একই ব্যবধানে হারানোর পর গ্রুপের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৪৪ রানে হারায় রোহিত শর্মার দল। গত পরশু গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২৪৯ রান তোলে ভারত। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ভারতীয় স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর ঘূর্ণিতে ২০৫ রানেই গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। যদিও এ ম্যাচের ফলাফল নিয়ে সন্দেহ রয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। তাদের ধারণা সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে এড়াতেই ম্যাচ ছেড়ে দিয়েছে কিউইরা। একই কারণে ভারতও চায়নি ম্যাচটি জিততে। তারপরও ভারতকে জিতিয়েছেন বরুণই। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নেমে ৪২ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি। পেসার জসপ্রিত বুমরাহর ইনজুরিতে ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে সুযোগ পেয়েছিলেন বরুণ। হর্ষিত রানার জায়গায় এবারের আসরে প্রথম খেলতে নেমেই বল হাতে চমক দেখালেন এই স্পিনার। তাই সেমিফাইনালের আগে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছেন বরুণ। সেমিতে বরুণ না-কি রানা খেলবেন, এই নিয়ে ভারত যে চিন্তায় পড়েছে সেটি স্বীকার করলেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। গতকাল তিনি বলেন,‘বরুণ অন্য ধরনের বোলার। আমরা দেখতে চেয়েছিলাম সে কেমন বল করে। খুবই ভালো বল করেছে সে। সে নিজের মতো করে বোলিং করলে তাকে খেলা খুব কঠিন। পরের ম্যাচের জন্য একাদশ সাজাতে আমাদের বাড়তি সময় দিতে হবে।’
২০২৩ সালে ঘরের মাঠে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে শিরোপা জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ভারতের। আবারও ওয়ানডে ফরম্যাটের টুর্নামেন্টে নক-আউট পর্বে ভারতের সামনে অজিরা। এ ব্যাপারে রোহিত বলেন, ‘আইসিসি ইভেন্টে অস্ট্রেলিয়া সবসময় ভালো খেলে। খুব ভালো ম্যাচ হবে প্রথম সেমিফাইনালটি। আমাদের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। আমাদের নিজেদের কাজ ঠিকভাবে করতে হবে। আশা করি এবার ফল আমাদের পক্ষে যাবে।’ ২০১৩ ও ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে খেলেছে ভারত। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা তৃতীয় ফাইনাল খেলার সেরা সুযোগ টিম ইন্ডিয়ার সামনে।
এদিকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ উইকেটের জয় দিয়ে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরের দুই ম্যাচে বৃষ্টির জন্য পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে অজিদের। ফলে ‘বি’ গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে স্টিভেন স্মিথের দল। তবে শেষ চারে প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারতকে পেয়ে সতর্ক ২০০৯ সালে সবশেষ ফাইনাল খেলা অস্ট্রেলিয়া। অধিনায়ক স্মিথের মতে, কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে দলকে। ভারতকে মোকাবেলার আগে স্মিথ বলেন, ‘বিশ্ব ক্রিকেট অন্যতম সেরা এক দল ভারত। গত ৮/১০ বছর ধরে আইসিসি ইভেন্টে সেরা চারে জায়গা করে নেয় তারা। এবার গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচেই অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছে রোহিতরা। এমন দলের বিপক্ষে সাফল্য পেতে হলে সেরা ক্রিকেট খেলা ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই আমাদের। আমি আশাবাদি সতীর্থরা ম্যাচে তাদের সেরাটা উজার করে দিবে এবং ভারতকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করবে।’
এখন পর্যন্ত ওয়ানডেতে ১৫১ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। যেখানে অস্ট্রেলিয়ার জয় ৮৪। ভারত জিতেছে ৫৭ ম্যাচ। ১০টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এর আগে চারবার মুখোমুখি হয়ে ২ ম্যাচ জিতেছে ভারত। অস্ট্রেলিয়ার জয় ১টি। বাকি ১ ম্যাচ পরিত্যক্ত হয় (২০০৯ সালে)।
মন্তব্য করুন