সব খবর ডেস্ক
২২ জুলাই ২০২৫, ৬:১৬ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

৫ আগস্ট হামলায় জড়িত আওয়ামী লীগ কর্মী স্বপরিবারে পেলেন ‘জুলাই যোদ্ধা’ স্বীকৃতি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিজয় মিছিলে হামলা করে গনপিটুনির শিকার  হন আওয়ামী লীগ কর্মী ওয়াজেদ আলী শেখ ও তার ছেলে অপূর্ব হিমেল রানা । কিন্তু ওয়াজেদ আলী শেখ, তার স্ত্রী মোছা. রুমি ও তার ছেলে অপূর্ব হিমেল রানা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত হিসেবে ‘জুলাই যোদ্ধা’র রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিয়েছেন, নিয়েছেন হেলথ কার্ড। তাদের দেওয়া হয়েছে লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা ।

 

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার নিগুয়ারী ইউনিয়নেয় পাতলাশী গ্রামের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কথিত আহত একই পরিবারে তিন যোদ্ধার বিরুদ্ধে এমন জালিয়াতির অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় চলছে।

জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া ওয়াজেদ আলী ও তার স্ত্রী, সন্তানের আবেদন থেকে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে আহত হন তারা তিনজন। তবে ওয়াজেদ আলী জানান, সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হন। সে সময় তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েও কিছুটা আঘাত পান। পরবর্তী সময়ে আবেদন করে ওয়াজেদ আলীর স্ত্রী জুলাই যোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়ে এক লাখ টাকা ভাতা পান।

গত ২৪ জুন জুলাই যোদ্ধাদের সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রাণালয়ের দেওয়া স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে পরিবারের পক্ষে কার্ড গ্রহণ করেন ওয়াজেদ আলী। একই পরিবারে তিন জুলাইযোদ্ধাকে শনাক্ত করে এলাকাবাসী জালিয়াতির মাধ্যমে জুলাই যোদ্ধা বনে যাওয়ার  অভিযোগ তুলেন।

আওয়ামী লীগের অনুসারী ওয়াজেদ আলী আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিন আহমদের নিকট আত্মীয় এবং জুলাই আন্দোলনে তাদের কোনো ভূমিকা নেই।

শতাধিক গ্রামবাসী অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট জুলাই-গণঅভুত্থানে ঐতিহাসিক বিজয়ের দিন এলাকার ছাত্র-জনতা নিগুয়ারি ইউনিয়নের ত্রি-মোহনী পল্টন মোড় এলাকা থেকে একটি বিজয় মিছিল বের করে। মিছিলটি ত্রিমোহনী-ডাকবাংলো বাজার সড়ক দিয়ে বিকাল চারটার দিকে পাতলাশী গ্রামের বিলারঘাট এলাকায় আসলে ওয়াজেদ আলী, তার ছেলে অপূর্ব হিমেল রানার নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ছাত্র-জনতার বিজয় মিছিলে হামলা চালায়। ওয়াজেদ আলীর বল্লমের আঘাতে হিরন পালোয়ান (৪০) নামে এক বিএনপি কর্মী আহত হয়। এ সময় ছাত্র-জনতার গণধোলাইয়ে ওয়াজেদ আলী ও তার ছেলে অপূর্ব হিমেল রানা সামান্য আঘাত প্রাপ্ত হন। এলাকাবাসীর গণধোলাইয়ের পর ওয়াজেদ আলী  স্বপরিবারে পার্শ্ববর্তী শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকায় আশ্রয় নেয়।

গণমাধ্যম কর্মীদের অনুসন্ধানে ওঠে আসে ওয়াজেদ আলী জাল জালিয়াতির ঘটনা। অসংখ্য এলাকাবাসীর দাবী আওয়ামী লীগ কর্মী ওয়াজেদ আলী ও তার পরিবার জুলাই আন্দোলন বিরোধী ছিল।

ওয়াজেদ আলীর হাতে বল্লমবিদ্ধ হিরন পালোয়ান বলেন, ৫ আগস্ট বিকেলে বিজয় মিছিলে হামলা করে ওয়াজেদ আলী আমার ডান হাতে আঘাত করে। এই ঘটনার পর ওয়াজেদ আলীর পরিবার মাওনা পালিয়ে যায়।

স্থানীয় বিএনপি নেতা ফরিদ খাঁ বলেন, ৫ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে বিজয় মিছিল নিয়ে আসার পথে ওয়াজেদ ও তার লোকজন আমাদের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। ওয়াজেদ স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ক্যাপ্টেন গিয়াস উদ্দিনের গ্রুপ করতেন। এই ক্যাপ্টেন গিয়াস মেজর জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় সাজা খেটেছেন। ৫ আগস্ট তারিখে আমাদের উপর হামলাকারী এই ওয়াজেদ এখন পুরো পরিবারসহ জুলাই যোদ্ধা বনে গেছেন। এটা কিভাবে সম্ভব?

খন্দকার সাহাব উদ্দিন (৯০) বলেন, বিকাল আনুমানিক চারটার দিকে দেখি এখানে হৈ চৈ হচ্ছে। তখন আমি এগিয়ে এসে দেখি ওয়াজেদ ও তার লোকজনের সাথে বিজয় মিছিল নিয়ে আসা লোকজনের মারামারি হচ্ছে। ৫ আগস্টে এখানে তাদের সাথে মারামারি হলো তাহলে সে জুলাই যোদ্ধা হলো কিভাবে? ওয়াজেদ যা বলছে তা পুরোটাই মিথ্যা।

স্থানীয় আরেক বৃদ্ধ আক্কাছ খান (৭০) বলেন, ৫ আগস্ট তারিখে শেখ হাসিনা পালানোর পর স্থানীয়রা মিছিল নিয়ে আসার পথে দেখি ওয়াজেদের বাড়ির সামনে দাঁ, বল্লম নিয়ে লোকজন বসা। তখন একজন বলে উঠে ফরিদ খাঁকে ধর। তারপর তাদের ধাওয়া করলে মারামারি হয়ে। সেই মারামারিতে ওয়াজেদ আলী সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হয়। সে সময় তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েও কিছুটা আঘাত পেতে পারে।

এমন অসংখ্য প্রত্যক্ষদর্শী ওয়াজেদ আলীর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

এ বিষয়ে জানতে ওয়াজেদ আলীর বাড়িতে গেলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। পরে স্থানীয়দের চাপে জানান, আমার ভুল হতে পারে আমি আর কোনো উত্তর দিব না। প্রয়োজনে টাকা ফেরত দিয়ে দিবো। ওয়াজেদ আলীর স্ত্রী মোছা. রুমি গণমাধ্যম কর্মীরা বাড়িতে এসেছেন শুনে বাড়ি থেকে সটকে পড়ে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন জানান, এসব বিষয়ে তদন্ত কমিটি হয়েছে। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে যাচাই বাছাই করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই কমিটির প্রধান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমীর সালমান রনির কাছে ওয়াজেদ আলীর পরিবারের তিন সদস্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের ডেকে এনে কথা বললে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। ফলে তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মোবাইল ইন্টারনেটের সর্বনিম্ন গতি হবে ১০ এমবিপিএস, সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর

বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস প্রথম টি-টোয়েন্টি আজ সিলেটে

বিশ্বজুড়ে ট্রাম্পের জারি করা বেশিরভাগ শুল্ক অবৈধ

আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারের পদত্যাগের দাবি রাশেদ খাঁনের

নুরকে দেখতে এসে হাসপাতালে অবরুদ্ধ আসিফ নজরুল

কাকরাইলে দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইএসপিআরের বক্তব্য

জর্জিনাকে দেওয়া ৬১ কোটি টাকার আংটিতে রোনালদোর ‘গোপন বার্তা’

রিজার্ভ ফের ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

সিইসির সঙ্গে মার্কিন দূতাবাস প্রতিনিধির বৈঠক দুপুরে

মুনিয়া হত্যারহস্য ফাঁস

১০

উপরে ‘সিঙ্গাপুর’ নিচে আবদুল্লাহপুর

১১

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে স্থায়ী সমাধান চান প্রধান বিচারপতি

১২

‘বাহুবলী- দ্য এপিক’ আসছে অবিশ্বাস্য দৈর্ঘ্য নিয়ে

১৩

শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার বিচার শুরু আজ

১৪

রুমমেটকে টিউবলাইট দিয়ে আঘাত, ডাকসুর ভিপিপ্রার্থী জালাল হল থেকে বহিষ্কৃত

১৫

হঠাৎ জ্বরে পড়লে কী করবেন

১৬

মিথিলার নামের আগে থাকবে ‘ডক্টর’

১৭

১৬ বছরের ‘নোমোহার’ গোলে নাটকীয় জয় লিভারপুলের

১৮

খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা: বুলু

১৯

নামাজ শেষে বেরিয়ে জামায়াত নেতার প্রাণ গেল সড়ক দুর্ঘটনায়

২০