
ফুটবল বিশ্বকাপের মতো মহামঞ্চে দেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামার স্বপ্ন দেখেন প্রতিটি ফুটবলার। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের ঠিক শুরুতেই সেই স্বপ্নের পথে বড় বাধার মুখে পড়লেন ঘানার তারকা মিডফিল্ডার টমাস পার্টি।মাঠের লড়াইয়ে নয়, প্রশাসনিক জটিলতার কারণেই দলের প্রথম ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলেন তিনি। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শেষ করে ঘানা যখন উদ্বোধনী ম্যাচের অপেক্ষায়, তখনই আসে দুঃসংবাদ।
কানাডা সরকার টমাস পার্টির ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে টরন্টোতে অনুষ্ঠিতব্য পানামার বিপক্ষে ঘানার প্রথম ম্যাচে অংশ নিতে পারবেন না ৩২ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে তার বিরুদ্ধে থাকা একাধিক ধর্ষণ অভিযোগের বিচারপ্রক্রিয়া চলমান থাকায় কানাডা কর্তৃপক্ষ তার প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। যদিও পার্টি শুরু থেকেই নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা জানিয়েছে, কানাডা সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে পার্টি দলের সঙ্গে দেশটিতে যেতে পারছেন না। বর্তমানে ঘানা দল যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের স্মিথফিল্ডে তাদের বেস ক্যাম্পে অবস্থান করছে। সেখান থেকেই তারা পানামার বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে টরন্টো যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে এ ঘটনায় নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথাও স্পষ্ট করেছে ফিফা। সংস্থাটি জানিয়েছে, আয়োজক দেশগুলোর ভিসা ও অভিবাসন নীতির ওপর তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এসব সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট দেশের আইন এবং সরকারের বিবেচনার ভিত্তিতেই নেওয়া হয়। কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিভাগ (আইআরসিসি) জানিয়েছে, প্রতিটি আবেদন দেশের প্রচলিত আইন ও নিরাপত্তা বিবেচনায় পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হয়। বিশ্বকাপের মতো বড় আয়োজন হলেও বিশেষ কোনো ব্যক্তির জন্য অভিবাসন নীতিতে ছাড় দেওয়া হবে না।
ভিসা না পাওয়ায় টমাস পার্টিকে ঘানার বেস ক্যাম্পে ফিরে যেতে হয়েছে। তবে এই অনুপস্থিতি শুধুমাত্র প্রথম ম্যাচেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। কারণ ঘানার পরবর্তী দুই ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে, যেখানে তার অংশ নিতে কোনো বাধা নেই।
আগামী ২৩ জুন ম্যাসাচুসেটসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এবং ২৭ জুন ফিলাডেলফিয়ায় ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে ঘানা। সেই ম্যাচগুলোতে দলের মাঝমাঠে আবারও দেখা যেতে পারে অভিজ্ঞ এই তারকাকে।